Search Bookmarks
You have no alerts.

    সাম্প্রদায়িক – আকাশ

    by mdnaim

    সাম্প্রদায়িক

    আকাশ

    অনেক দিন আগের কথা। হিজলতলী গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ছিল দেওয়ানবাড়ি; আর দক্ষিণ পাড়ায় ছিল চক্রবর্তীবাড়ি। আমার চাচা ফিরোজ দেওয়ানের সঙ্গে অজয় চক্রবর্তীর ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

    অজয় চক্রবর্তীর মেয়ে মালা ছিল আমার শৈশবের খেলার সাথী। আমরা ছিলাম একই বৃন্তে দুটি ফুল। দুই পরিবারের বন্ধুত্বের সুবাদে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কেউ কোনো সন্দেহ করত না।

    ২০০৮-এ আমি ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে আর মালা ক্লাস নাইনে পড়ত। ওই সময় দুর্গাপূজায় ওদের বাড়ির নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে আমরা সপরিবারে চক্রবর্তীবাড়িতে গিয়েছিলাম। রাতে খাওয়া শেষে আমি আর মালা ওদের দিঘির ঘাটে বসে কথা বলছিলাম। কথায় কথায় মালা বলল, তার বাবা বর্ধমানে জমি কিনে ওখানে তার কাকুর কাছে চলে যাওয়ার চিন্তা করছে।

    এই প্রথম বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। কি এক অজানা আশঙ্কায় হঠাৎ করে মালাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলাম। মালাও আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কান্না থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগল। এ ঘটনা দেখে ফেলল মালার পিসতুতো ভাই টগর চক্রবর্তী। মুহূর্তেই বাড়ির পরিবেশ অন্য রকম হয়ে গেল।

    ব্রাহ্মণের মেয়ের সঙ্গে মুসলমান ছেলের প্রেম কেউ মেনে নিতে পারল না। মালাকে তার মামাবাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু মোবাইলে মালার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। মালার নতুন স্কুলে গিয়ে মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে দেখা করতাম।

    একদিন মায়ের অসুস্থতার কারণে মালা তাদের বাড়িতে এল। কয়েকবার ফোন দিয়েও তাকে না পেয়ে মেসেজ দিলাম, রাত একটায় তাদের বাড়ির দিঘির পাড়ে আমি অপেক্ষা করব।

    ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকায় মালা এর কিছুই টের পেল না। ডাক্তারকে ফোন করার প্রয়োজনে মালার বড়দা তার মোবাইলটি হাতে নিতেই আমার ফোন ও মেসেজ দেখল।

    রাত একটায় দিঘির পাড়ে আমার ওপর আক্রমণ করল মালার দাদার লোকজন। খবর পেয়ে দেওয়ানবাড়ির লোকজন সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় আমাকে দিঘির পাড় থেকে উদ্ধার করে। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

    পরদিন গ্রামে সালিশ বসল। সালিশে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হামলাকারীদের আমি চিনেছি কি না?

    আমি না বলে দিলাম।

    চক্রবর্তীবাড়ির লোকজন হাফ ছেড়ে বাঁচল।

    কিন্তু আমার বাড়ির লোকজন প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের প্ল্যান করতে লাগল। এলাকার টাউট মাস্তান, রাজনীতিবিদদের কদর বেড়ে গেল। মানসম্মানের কথা চিন্তা করে এক রাতে মালার পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেল।

    পরদিন সকালে মালার বাড়ির কাজের মেয়েটি আমাকে একটি চিঠি দিয়ে বলল, দিদি ইন্ডিয়া যাওয়ার সময় গোপনে এই চিঠিটি আপনাকে দিতে বলেছেন।

    কম্পমান হাতে চিঠিটি খুলে পড়তে লাগলাম। মালা লিখেছে, আমার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে চিঠি লিখছি। অনেক চেষ্টা করেছি আকাশ, কিন্তু আর পারলাম না। আমি বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ছি। আমাদের সম্মানের কথা চিন্তা করে তুমি সব অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করেছ। তোমার মালা তোমারই থাকবে। এই জন্মে না হলেও পরজন্মে অবশ্যই হবে। আমি তোমার জন্য জন্ম জন্মান্তর অপেক্ষা করব।

    ইতি
    তোমারই মালা

    চিঠি পড়ে আমি পাথর হয়ে গেলাম।

    ঢাকা থেকে
    ০১৯১৬ ২১৯ ৯১২, ০১৭২১ ৪৩২ ৪৫৫
    akramul.siddiq@gmail.com

    1. No chapters published yet.
    Note