You have no alerts.
    Cover of বোধ

    বোধ

    by অতিথি লেখক

    বোধ  :  আরিফ আজাদ

    [এক]

    আজ সকাল সকাল বের হতে হবে শাওনকে।দুই জায়গায় দুটি শিডিউল দেওয়া আছে।প্রথমেই যেতে হবে গৌরিপুর হাসপাতালে।সেখানে মামুনের স্ত্রীকে ভর্তি করানো হয়েছে। ডেলিভারি কেইস।গতকাল রাত দেড়টায় মামুন ফোন করে জানিয়েছে, তার স্ত্রীর রক্ত লাগবে।তাও খুব সকাল সকাল। ফোনে মামুন পারলে তো কেঁদেই ফেলে।বারবার বলতে লাগল,’দোস্ত,আসবি তো?বল না রে!সত্যি সত্যিই কি আগামীকাল আসবি হাসপাতালে? তোর ভাবির খুব ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশান যাচ্ছে। তুই ছাড়া এমন কেউ নাই যে আগামীকাল ভোরে এসে রক্ত দিতে পারবে।প্লিজ দোস্ত,কথা দে আসবি?’

    এমনিতে ফোনের রিংটোন বেজে ওঠায় ঘুম ভেঙ্গে গেছে শাওনের। তার ওপর মামুনের এরকম ন্যাকা-কান্না শুনে তার সত্যিই রাগ লাগছিল।ভন ভন করে মাথা ঘুরতে লাগল।ফোনের ওপাশে মামুনের নাক্যামো মার্কা কান্না যেন থামছেই না।একপর্যায়ে শাওন বিরক্ত হয়ে বলল,’থামবি তুই?এক কথা আর কতবার বলবি?বললাম না আসব।এক কথা কি হাজারবার বলা লাগে?’

    শাওনের একপ্রকার ধমক শুনে একটু থামল মামুন।বলল,’দোস্ত,রাগ করিস না।ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশানে পড়েই তোর ধরনা দিয়েছি। তাছাড়া আমার হাতে যদি কয়েকটি অপশন থাকত তাহলে তোকে এভাবে জ্বালাতাম না আমি।বিশ্বাস কর।’

    শাওন রাগত্বস্বরে বলল,’বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কিছু নেই।তোকে বলছি তো_ আগামীকাল ভোরেই আমি হাসপাতালে থাকব-অন দ্য টাইম।এরপরও তুই বারবার বলে যাচ্ছিস__আসবি তো–আসবি তো?বিরক্ত লাগে না বল?

    মামুন চুপ মেরে গেল যেন।দুই প্রান্তেই নীরবতা ।নীরবতা ভেঙ্গে শাওন বলল,’টেনশন করার কিছু নেই।আমি আগামীকাল খুব ভোরে উপস্থিত থাকব।বুঝেছিস?’

    মামুন ধীর-গলায় বলল, ‘ধন্যবাদ দোস্ত।’

    শাওন অতটা সময়ের অপেক্ষা করেনি।ফোনের লাইন কেটে দিয়ে শুয়ে পড়েছে।

    অন্য শিডিউলটি ক্যাম্পাসের।আজ ডিপার্টমেন্টাল প্রোগ্রাম আছে।প্রোগ্রামের সব দায়-দায়িত্ব চেপেছে শাওনের কাঁধেই। মোটামুটি রকমের একটা ঝামেলায় পড়ে গেল সে।দুটি-ই ইমার্জেন্সি এবং সমান গুরুত্বপূর্ণ।বের হওয়ার পথে শাওনের মা ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,’এত তাড়াতাড়ি তো কখনই যাস না।আজ যাচ্ছিস যে?’

    শাওন ঘাড় বাঁকিয়ে উত্তর দিল,’কখনই যাই না বলে যে আজ যেতে পারব না—এমন কোনো ব্যাপার আছে নাকি?’

    ছেলের উত্তর শুনে শাওনের মা একদম চুপ মেরে গেলেন।তিনি খুব ভালো করেই জানেন তার ছেলে কোনোদিন সোজা কথায় সোজা উত্তর দেয় না।তাকে যখন মাছের কাঁটা বেছে মাছ খেতে দেওয়া হতো সে প্লেট ঠেলে দিয়ে বলত,’কাঁটার জন্য মাছ খাবো না,তা তো বলিনি।মাছ খাবো না বলছি__কারন,মাছ খেতে আমার ভালোলাগছে না,তাই।শুধু শুধু বাড়তি যত্ন-আত্তির আমাকে করতে এসো না প্লিজ। বিরক্ত লাগে।’

    ছেলের এমন অদ্ভুত আচরণে খুব আহত হন রাহেলা বেগম।বাপ-মরা একমাত্র ছেলে তার।কত স্বপ্ন তাকে ঘিরে!কিন্তু বযস বৃদ্ধির সাথে সাথে ছেলেটির এমন অদ্ভুত স্বভাবের কারনে রাহেলা বেগমের চোখের জল ফেলতে হয়।স্বামী আযহার উদ্দীনের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে আলেম বানাবেন।শাওনের যখন সাড়ে তিন বছর বয়স তখন থেকেই তাকে নিয়ে রোজ মসজিদে চলে যেতেন আযহার উদ্দীন।ছেলেকে পাশে দাঁড় করিয়ে সালাত আদায় করতেন তিনি।এত ছোট্ট বাচ্চাকে মসজিদে আনতেন বলে অন্য মুরব্বী-মুসল্লীরা প্রায়ই দু-চারটি কথা শোনাতেন আযহার সাহেবকে;কিন্তু তাতে একেবারেই পাত্তা দিতেন না তিনি।তার একটাই কথা ছিল __ছোট বাচ্চারা ছোটবেলায় যা শিখে সেটি তারা সবসময় মনে রাখতে পারে।মসজিদে আসা শিখলে বড় হয়েও মসজিদে আসবে।

    আযহার উদ্দীনের এই চিন্তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাবার হাত ধরে খুব ছোট বেলাতেই মসজিদে আসা-যাওয়া করা ছেলেটি বড় হয়ে একেবােরে মসজিদমুখী হয় না বললেই চলে।বাবার শেখানো সব বিদ্যে সে ভুলে বসে আছে।অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়ে একেবারে বখে গেছে সে।অথবা হতে পারে অবাধ স্বাধীনতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাহেলা বেগম প্রায়ই বিড়বিড় করে বলেন, ‘অতিরিক্ত স্বাধীনতাও একরকম পরাধীনতা’

    পায়ে মোজা পরতে পরতে শাওন বলল,’দুপুরে খাব না।ফোন কোরো না।’

    রাহেলা বেগম জানতে চাইলেন ‘খাবি না কেন?কোথায় খাবি তাহলে?’

    মায়ের দিকে অগ্নিদৃষ্টি দিল সে।তার চোখ থেকে যেন আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। খুব কঠিন চেহারায় বলল, ‘জাহান্নামে খাব,বুঝতে পেরেছ?কতবার বলেছি আমার ব্যাপারে বেশি নাক গলাতে আসবে না।যখন বলেছি খাব না,তখন খাব না,ব্যস।ফারদার প্রশ্ন করে জানতে চাইবে না__কেন খাব না,কোথায় খাব ইত্যাদি ইত্যাদি….। ‘

    রাহেলা বেগম দ্বিতীয়বারের মতো চুপ মেরে গেলেন।ছেলের এমন স্বভাবের সাথে তিনি আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেছেন।আগে সে এরকম ব্যবহার করলে তিনি জায়গাতেই চোখের পানি ছেড়ে দিতেন।টপটপ করে তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ত মাটিতে। এখন চোখ আর মন___দুটি-ই কেমন যেন শক্ত হয়ে গেছে।অথবা হতে পারে সময়ের সাথে সাথে সয়ে নিয়েছে এগুলো।এখন আর এসব দেখে মনের ভেতরে হাহাকার হয় না।বুক ফেটে কান্না আসে না।মাঝে মাঝে আল্লাহর কাছে নিজের মৃত্যু চাইতে মন চায়।কিন্তু হাদীসে নিজের মৃত্যু চাইতে নিষেধ করা হয়েছে বলে তিনি ধৈর্য ধরে আছেন।

    শাওন যখন বের হতে যাবে তখন আবার বললেন, ‘ যদি একটু সময় দিতি তাহলে টিফিন ক্যারিয়ারে হালকা কিছু নাস্তা দিয়ে দিতাম।তোর জন্য ভোর থেকেই শীত-পিঠা বানাচ্ছিলাম।’

    কিছুই বলল না সে। শুনতে পায়নি __এমন ভাব করে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।তার চলে যাওয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন রাহেলা বেগম।তার মনে পড়ে যায় অতীতের কথা। শাওন যখন তার বাবার সাথে মসজিদে যাওয়ার জন্য অথবা স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হতো তখন সে বারবার পেচন পিরে মায়ের দিকে তাকাত।হাত নেড়ে মুচকি হেসে মাকে বিদায় জানাত।দরজার আড়াল থেকে তিনিও হাত নেড়ে ছোট্ট সোনামণিটাকে বিদায় দিতেন। মা-ছেলের চোখে -চোখে কথা গতো।সেই ছেলে আজ এরকম অবাধ্য উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়বে__তা রাহেলা বেগম স্বপ্নেও ভাবেননি।

                    [দুই]

    শাওন কথা রেখেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সে হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে।

    গৌরিপুর হাসপাতাল। রোগীদের আসা-যাওয়া এবং চিৎকার -চেঁচামেচিতে গমগম করছে পুরো হাসপাতাল এলাকা। শাওনকে দেখে একরকম দৌড়ে এলে মামুন।চেহারায় বিষম্নতার ছাপ।চিন্তা আর অস্হিরতায় শুকিয়ে যেন কাঠ হয়ে গেছে সে।হাঁপাতে হাঁপাতে এসে শাওনকে বলল, ‘থ্যাঙ্ক ইউ দোস্ত।অনেক বড় উপকার করলি আজ’।মামুন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল।তাকে থামিয়ে দিয়ে শাওন বলল, ‘তোর বউয়ের কী অবস্থা বল।’

    ‘অবস্থা তো ক্রিটিক্যাল।খুবই ব্লিডিং হয়েছে ।এজন্যই ব্লাড লাগছে।’

    ‘ব্লাড কখন নেওয়া হবে?’জানতে চাইল শাওন।

    ‘একটুপরেই। ‘

    ‘আচ্ছা ‘বলেই থেমে গেল শাওন।শাওনের যে অন্য জায়গায় যাওয়ার তাড়া আছে ব্যাপারটি মামুনকে জানানোর দরকার মনে করল না সে।বিপদগ্রস্ত মামুনের কাছে বাকি পৃথিবীটাই গৌণ।

    ব্লাড দেওয়া শেষে শাওন হাসপাতালের বারান্দায় ফিরে এলো।তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিল মামুন।শাওনের আজকের উপকারের কথা সে কোনোদিন ভুলবে না,এই প্রতিদানের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করতে পারবে না সে__ইত্যাদি বলতে বলতে শিশুর মতোই কাঁদতে লাগল সে।তার কান্না দেখে আশেপাশের লোকজনও ফিরে তাকাচ্ছে ওদের দিকে।হালকা বিব্রত হচ্ছে শাওন; কিন্তু এই মূহুর্তে মামুনকে থামিয়েও দেওয়া যাচ্ছে না।শাওন বলল, ‘ আমার একটু তাড়া আছে।আমি তাহলে আসি এবার।’

    তার চলে যাওয়ার কথা শুনেই মামুন বলল, ‘ চলে যাবি মানে?আমার সন্তানের মুখ দেখে যাবি না?’

    শাওন খেয়াল করল সন্তানের কথা বলতে গিয়ে অদ্ভুতরকম পাল্টে গেল মামুনের চেহারা।বিষম্নতায় নুইয়ে পড়া মুখাবয়বে হঠাৎ আনন্দের ঝিলিক খেলে গেল।মামুনকে এরকম উৎফুল্ল দেখে শাওন জানতে চাইল, ‘ সন্তানের জন্য খুব অধীর অপেক্ষায় আছিস বলে মনে হচ্ছে? ‘

    হেসে ফেলল মামুন।তাকে দেখে বোঝাই যাবে না যে,সে একটু আগে হাউমাউ করে কেঁদেছে। বলল, ‘ সন্তান যে কী-জিনিস তা বাবা হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনোদিন বুঝবি না।’

    শাওন চুপ করে রইল।ভাবতে লাগল তার বাবার কথা। সে যেদিন পৃথিবীতে আসে সেদিন কি তার বাবাও এরকম অধীর আগ্রহে প্রহর গুনেছে সারাক্ষণ?

    বাবার স্মৃতি আবছা -আবছা মনে করতে পারে সে।সেই আবছা স্মৃতির সবটুকুজুড়ে আছে বাবার আদর।বাবা তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে ঘুরতেন। বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়া, আইসক্রিম খেতে খেতে বাসায় ফেরা__সবকিছু যেন স্মৃতির অতল গহ্বর থেকে হটাৎ বের হয়ে আসতে চাইছে….

    শাওন বলল,’ ভাবিও কি তোর মতোই উদগ্রীব সন্তানের জন্য? ‘

    আবার হেসে ওঠে মামুন বলল,’ কী যে বলিস!বাবার চেয়ে একজন মা-ই তার সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি উদগ্রীব থাকে। দশ-দশটি মাস পেটের ভেতরে অসহ্য সব যন্ত্রণা সহ্য করে বড় করে তোলে সন্তানকে।ভাবতে পারিস,কতটা ত্যাগ থাকে তাতে?একবার কী হয়েছে জানিস?তোর ভাবি একদিন আমাকে বলল,’ যদি সন্তান জন্মের সময় অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে,হয় সন্তান বাঁচবে না-হয় মা;তখন কিন্তু তুমি আমার কথা মোঠেই মাথায় আনবে না।আমার সন্তানই যেন আমার ওপরে প্রাধান্য পায়।আমি না থাকলেও সে যেন বেঁচে থাকে এই পৃথিবীর আলো-বাতাসে।সেদিন তার কথাগুলো শুনে আমার কান্না চলে এসেছিল।’

    শাওন শুনল কথাগুলো ।একজন মা তার সন্তানকে এতটা ভালোবাসে?এতটাই ভালোবাসে যে, নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানের কথা ভাবতে পারে?অথচ ওই সন্তানের চেহারা পর্যন্ত দেখেনি তখনও।
    সে আবার ভাবনার জগতে হারিয়ে যায়।’আচ্ছা, আমার মা-ও কি আমার আগমনের সময় এমন উদগ্রীব ছিলেন?আমাকেও তো তিনি দশ-মাস পেটে রেখেছেন। সহ্য করেছেন অসহনীয় সব যন্ত্রণা।আচ্ছা, তখন বাবাকে ডেকে আমার মা-ও কি এমন করে বলেছিলেন? সেই কঠিন মূহুর্তে আমিও কি তার কাছে তার জীবনের চেয়ে বেশি প্রধান্য পেয়েছিলাম।

    কল্পনায় ছেদ পড়ল শাওনের।পাশের অপারেশন থিয়েটার থেকে উচ্চৈঃস্বরে ভেসে আসছে এক নবজাতকের চিৎকার -কান্না। এই কান্নায় বুকটা হয়তো ধড়ফড় করে ওঠল মামুনের।সে এক ভোঁ-দৌড়ে চোখের পলকে চলে গেল ওদিকে।মামুনকে এমন পাগলের মতো ছুটতে দেখে খানিকটা অবাক হয় শাওন।সাদা পোশাক পরা একজন নার্স অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে মামুনকে বলল,’মামুন সাহেব,আপনার মেয়ে হয়েছে।’

    মামুনের খুশি আর দেকে কে;খুশিতে সে উচ্চ আওয়াজে কয়েকবার ‘আলহামদুলিল্লাহ ‘বলে ওঠল।হাসপাতালে কিছু আত্মীয় -স্বজনও এসেছিল ইতোমধ্যে। কাছে যাকে-ই পাচ্ছিল__তাকেই আনন্দে জড়িয়ে ধরছিল মামুন।সন্তানের জন্য মামুনকে এমন উৎফুল্ল দেখে শাওনের ভেতরে এক নতুন অনুভূতির সৃষ্টি হয়।সেই অনুভূতি শাওনকে চমকিত করে,ভাবিত করে।

    [তিন]

    বাইরে বেরিয়ে এলো শাওন।সকালের সোনা-রোদ এখনও মিলিয়ে যায়নি।এই মূহুর্তে তার ক্যাম্পাসে চলে যাওয়ার কথা।কিন্তু কোনো এক কারণে আজকে তার ক্যাম্পাসে যেতে মন চাইছে না কোনোভাবেই ।তার স্মৃতিতে শুধু ভেসে ওঠছে তার বাবাব আবছা চেহারা।মনে পড়ছে মায়ের কথা। আজ সকালেও মাকে সে শাসিয়েছিল।প্রতিদিনই এমন আচরণ করে সে তার মায়ের সাথে। কেন জানি তার বেতরে খুব অপরাধবোধ কাজ করছে এখন।তার মন চাচ্ছে মাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে।জড়িয়ে দরে মামুনের মতো হুহু করে কাঁদতে পারল তার ভালোলাগত হয়তো…..

    [চার].

    ঠক….ঠক…ঠক…..

    দরজা খুলে দিলেন রাহেলা বেগম।দরজার সামনে শাওনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি বেশ অবাকই হলেন।ওর তো আসার কথা ছিল না এখন।কোনো সমস্যা হয়েছে কি?রাহেলা বেগম খেয়াল করলেন,শাওন তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।তার সেই দৃষ্টিতে কোনো বিরক্তি নেই।কোনো তাচ্ছিল্য নেই।ছেলের চোখের এই চাহনির সাথে রাহেলা বেগম খুব অপরিচিত। ছেলের কোনো বিপদ হয়েছে কি না__এমন এক অজানা শঙ্কায় কেঁপে ওঠল তার বুক।

    হঠাৎ মায়ের পায়ে লুটিয়ে পড়ল শাওন।রাহেলা বেগমের পা দুটি জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে সে কাঁদতে আরম্ভ করল।কুব অবাক হযে গেলেন রাহেলা বেগম।ছেলের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করেন তার কী হয়েছে?এমন করছে কেন?কোনো সমস্যা হযেছে কি না…..

    শাওন কিছুই বলছে না।শুধুই কাঁদছে। শিশুদের মতো মায়ের গলা জড়িয়ে কাঁদতে থাকা শাওনকে আদর করে গালে চুমি খায় রাহেলা বেগম।তিনি বুঝতে পারেন শাওনের বোধ জেগেছে।একপ্রকার হারিয়ে যাোয়া ছেলেকে তিনি আবার ফিরে পেয়েছেন। রাহেলা বেগমের ইচ্ছে করছে এই মূহুর্তে জায়নামায বিছিয়ে দুআ করতে।কেননা,ছেলেকে নিয়ে এভাবেই তার হাজার বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয়….(সমাপ্ত)

    ________________________________________________________________________________________

    1. No chapters published yet.
    Note