# মিথ্যা স্বপ্ন-রিনা

- Link: https://golpona.com/story/mittha-shopno-rina/
- Published: 2026-10-05T17:11:51+06:00
- Author: mdnaim

**মিথ্যা স্বপ্ন** – **রিনা**

অনেক দিন থেকেই আমি মোটিলের পাঠক এবং লেখক। কখনো ইচ্ছা ছিল না লেখার সুবাদে যাদের সঙ্গে
পরিচয় হবে তাদের সঙ্গে অন্য কোনো রিলেশনে যাওয়ার। এ জন্য কোনো পাঠককে কেন্দ্র করে
কখনো আমার লেখা হয়নি। আবার আমাকে নিয়েও কারো কোনো গল্প তৈরি হয়নি। অনেকেই তো লেখে
কত পাঠক-লেখককে নিয়ে। কিন্তু এক সময় ইচ্ছা যে আমার হয়নি, তা কিন্তু নয়!

আমার পরিণতি বিষয়ক লেখা পড়ে ফোন দিয়েছিল সজল। আমি পাঠকদের সঙ্গে যথাসম্ভব ভদ্র আচরণ
করি। কেননা মোটিলের সবাইকে আমার একই পরিবারের বলে মনে হয়। সেই সূত্র ধরে সজলের সঙ্গে
কথা বলা।

দু’দিন কথা বলতেই সজল বলল, আমি অনিকের মতো হতে চাই। আমি তাকে বোঝালাম, দেখুন অনিকের
মতো কেউ কখনোই আমাকে বুঝতে বা ভালোবাসতে পারবে না। আমি যতই বোঝাতাম, ও ততই বেপরোয়া
হয়ে উঠত।

এক সপ্তাহের মাথায় আমাদের দেখা হলো। ও যে দেখতে খুব সুন্দর ছিল, তা নয়। তবে কিছুটা
ভালো লেগেছিল। তাকে বলেছিলাম, মোটিলের পরিচয়ে আমি কাউকে কখনো বিয়ে করব না। আপনি বন্ধু
হয়ে থাকতে পারেন। এ কথায় সে কিছুতেই রাজি ছিল না। তার একটাই কথা, সে আমাকে বিয়ে 
করবে।

এক পর্যায়ে সে তার বাসায় ম্যানেজ করে আমার বাসায় প্রস্তাব পাঠাল। ওদের পরিবারের 
কোনো সমস্যা না থাকলেও আমিসহ আমার পরিবারের সমস্যাটা ছিল অনেক বেশি। বিশেষত সজলের ভালোবাসার
বাড়াবাড়ি পর্যায় দেখে আমি কনফিউশনে ছিলাম।

এভাবেই কেটে গেল সাত মাস।

এদিকে ওই সময়ে বাবাকে হারিয়ে আমি বিধ্বস্ত প্রায়। আমার এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিল
সজল। আমি ওকে বলতাম, দেখো, আমার কপালটা অনেক ছোট। এত সুখের স্বপ্ন আমাকে দিও না।

ও বলত, দেখো মহারানি, সুখগুলো কেবলই তোমার জন্য।

শবেবরাতের রোজা রাখার পর আমার খুব জ্বর হলো। ইতিমধ্যে একদিন ফাজলামি করে ওকে বলেছিলাম,
আমাকে বাদ দিয়ে আমার বান্ধবীর নাহার তোমাকে দিচ্ছি, ও তোমার জন্য পারফেক্ট হবে। ব্যস,
এ পর্যন্তই! তবে ওই সময় নাহারটা আমার কাছ থেকে নিয়েছিল সজল। আমার জ্বর শুনে সজলের
সে কি অস্থিরতা! ঠিকমতো ওষুধ খাচ্ছি কি না, মাথা ধুয়েছি কি না, ইত্যাদি ইত্যাদি নানান
প্রশ্ন। না জানিয়ে অসুস্থ আমাকে দেখতে এল সজল। সেদিন ওর চোখের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত
নিলাম, একে বিয়ে করা যায়।

এর আগে গত সাত মাস সজল আমাকে রাতে কথা বলার জন্য অনুরোধ করত। কিন্তু রাতে কথা বলাটা
আমার একদম ভালো লাগত না। জ্বর অবস্থায় সজল যখন আমাকে দেখতে এল, সেদিন বিদায় নেওয়ার
মুহূর্তে বুঝেছিলাম, আসলে বিদায়টা কতটা কষ্টের।

সে রাতে ওকে বললাম, আজ তোমার সঙ্গে কথা বলব। আমাকে অবাক করে দিয়ে ও বলল, দেখো, আমি
জরুরি করে এসেছি। আজ নয়, কাল তোমার সঙ্গে কথা বলব।

সেই প্রথম উপলব্ধি করলাম কথা না বলতে পারার কষ্টটা। আমার আর সে রাতে ঘুম হলো না। রাত
আড়াইটা বাজে ফোন দিয়ে দেখলাম ব্যস্ত। আমি তেমন কিছুই মনে করিনি। কিন্তু যখন দেখলাম
আমাকে ওয়েটিংয়ে রেখে ভোর ছয়টা পর্যন্ত ও ব্যস্ত, ঠিক তখন শুরু হলো আমার হৃদপতন।

যে বান্ধবীর নামটা সজলকে দিয়েছিলাম, ওর নাম ছিল স্মৃতি। পরে জানলাম, সেদিন মূলত সজল
আমার সঙ্গে নয়, স্মৃতির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই নিলাম। কারণ,
আমি জানতাম, ও আমার কাছে ভুল স্বীকার করে ফিরে আসবে। কিন্তু পরে জানতে পারলাম, ওই দিনের
পর থেকে প্রতিটি ছুটির দিন ওরা একসঙ্গে কাটিয়েছে।

আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। নিজেকে হিরোশিমা নাগাসাকির ধ্বংসস্তূপের মতো লাগত। কিছুই
ভালো লাগতো না।

ইতিমধ্যে আমার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। সব মিলিয়ে আমার অবস্থা দেখে আন্সু কাঁদতে শুরু
করল। আমাকে বোঝানো মাস্কিল হয়ে পড়ল। কিন্তু এত সব যার কারণে, সে তখন দিব্যি প্রতি
রাতে স্মৃতির সঙ্গে তার রঙিন স্বপ্ন দেখতে এবং দেখাতে ব্যস্ত। আমিও চাইলাম সজলের জীবন
স্মৃতিময় হোক। কিন্তু মনটাকে কিছুই মানতে পারছিলাম না।

এবার আসি মূল কথায়। এই যে আমাদের জীবনে যে সুখের পায়রাগুলোর আগমন ঘটে, তাদের সঙ্গে
কয়েক দিনের সুখী হওয়ার জন্য যে আমরা পুরো জীবনের সুখগুলো নষ্ট করি, এটি কি ঠিক? কত
বোকা আমরা! এটি ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।

এই যে আমি কত সুখী ছিলাম জীবনে। ওই ক’দিনের সুখের প্রশ্ন দিতে গিয়ে আজ আমি গোটা জীবনের
সুখটাকে হারাতে বসেছি। আমার তো কোনো দোষ ছিল না। কি নির্মল জীবন ছিল আমার! এভাবে কতজনের
সুখের সংসার পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। আমরা কি এজন্য একটু সিনসিয়ারলি চলতে পারি না?
একটু কি পারি না ওইসব সুখের পায়রাগুলোকে এড়িয়ে দূরে দিতে?

আমার মনে হয় সেটি পারা উচিত। তাহলে একটা ফোন নাম্বারের বিনিময় হিসেবে কখনো কোনো জীবন
নষ্ট হবে না। ছোট্ট একটি সুখের জন্য পুরো জীবনের সুখ নষ্ট হবে না। কেন আমরা নিজেদের
সামান্য সুখের জন্য বিলিয়ে দিই? আমরা কি পারি না এসব বিষয় পুরোটাই গার্ডিয়ানদের 
ওপর ছেড়ে দিতে?

এই যে আমার কথাই ভাবুন। আজ অনেক দিন নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। ঘুম তো সেই করে উড়ে গেছে।
আমাকে নিয়ে আমার মা-বাবার স্বপ্ন আজ ধুলিসাৎ হয়ে বসেছে। একটু ভাবুন, যার জন্য আমার
এমন অবস্থা, সে কিন্তু দিব্যি অন্যকে নিয়ে অনেক হ্যাপি আছে। কি লাভ একতরফা ভালোবেসে
নিজেকে পোড়ানো? আর যারা এ রকমটা করে তাদের বলছি, তোমরা কি এভাবে সুখী জীবনগুলোকে নষ্ট
করার জন্য পৃথিবীতে এসেছ? কি লাভ এতে তোমাদের? তার চেয়ে বরং এই ভালোবাসা দিবস থেকে
এই সিদ্ধান্ত নাও, কারো জীবনে সুখের পায়রা হয়ে যাব না, ক্ষণিকের সুখ দিয়ে জীবনের
সুখ কেড়ে নেব না। যা ধরে রাখতে পারব না সে রকম সম্পর্ক গড়ে তুলব না। প্লিজ, তোমরাও
একজনকে বেছে নিয়ে লাইফ টাইম হ্যাপি থাকো। প্লিজ, কেউ কারো জীবন নষ্ট করো না।

রিনা – রাজশাহী থেকে

পাঠক সজলের দীর্ঘ সাত মাসের টানা আগ্রহ ও ভালোবাসার আকুতিতে একপর্যায়ে সাড়া দেন রিনা।
মানসিক দুর্বলতার সুযোগে সজলের প্রতি রিনার আস্থা তৈরি হলেও তিনি পরে আবিষ্কার করেন
যে সজল গোপনে তার বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে প্রতারিত করেছে।

এই প্রতারণা রিনার জীবন ও পড়াশোনা বিপর্যস্ত করে তোলে। ক্ষণিকের মিথ্যে ভালোবাসার 
মোহে পড়ে জীবনের স্থায়ী সুখ নষ্ট না করার জন্য রিনা পাঠকদের সতর্ক করেছেন এবং আবেগপ্রবণ
না হয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
