
শাস্তি
শাস্তি- মাহবুব আলম মাসুদ
রহমতপুর গ্রামের পরিচিতি এই দিঘিটা দিয়েই। উত্তর-দক্ষিণে লম্বা দিঘিটা এত বড় যে উত্তরপাড়ে দাঁড়িয়ে দক্ষিণপাড়ের মানুষকে ঠিকমতো চেনা যায় না। ছায়া-মানবের মতো মনে হয়। দিঘিটার তিন দিকে খোলা প্রান্তর। দক্ষিণপাড় দিয়ে গ্রামের একমাত্র রাস্তাটা পরের গ্রামের বাহারগঞ্জ হাটে গিয়ে ঠেকেছে। লোকজন পায়ে হেঁটেই চলাচল করে। হঠাৎ একটা দুটো রিকশা চলতে দেখা যায়। উত্তরপাড় ঘিরে কয়েকটা বাড়িঘর আছে। একে বলে দিঘিপাড়া। আরেকটা পাড়া আছে গ্রামে। ওটাকে কেউ পাড়া বলে না। বলে মুন্সিবাড়ি। এই দুই পাড়া আর বিচ্ছিন্ন কয়েকটা বাড়িঘর নিয়েই এই গ্রাম। গ্রামের মানুষ।
বাড়ি থেকে বের হয়ে জয়নাল হাফেজ দিঘিপাড়ার দিকে হাঁটতে লাগলেন। শীত পড়ে গেছে এই অগ্রহায়ণের শুরুতেই। অবশ্য কাঁপনধরা শীত এখনো আসেনি। হাফেজ সাহেব তাঁর বাম কাধে ফেলে রাখা চাদরটা ডান হাতে ঘাড়ের পেছন দিয়ে টেনে এনে বুকের উপর রাখলেন মাফলারের মতো করে। তাঁর বাম হাতে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটা কাঁচের বোতল ঝুলছে। বের হওয়ার সময় দুলালের মা হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। ঘরে নাকি এক ফোঁটা কেরোসিনও নেই। নামাজ শেষে হাটে যেতে হবে।
দিঘিটা যত বড় দিঘির উত্তরপাড়ের বিশালাকৃতির তেঁতুলগাছটার নিচের মসজিদটা ততই ছোট। বার হাত, আট হাত। উপরে দুচালা টিনের ছাউনি। বাঁশের বেড়া। মাটির মেঝে। চট বিছিয়ে নামাজ আদায় হয়। ছোট্ট এই গ্রামের এটাই একমাত্র মসজিদ।
জয়নাল হাফেজ সূর্যের দিকে তাকালেন। আসরের ওয়াক্ত হয়ে গেছে কি না ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। একটা পকেটঘড়ি আছে তাঁর। এখনো পকেটেই আছে। কিন্তু ঘড়ির দম বন্ধ হয়ে আছে তিন দিন ধরে। মুক্তাগাছা গিয়ে ঠিক করিয়ে আনতে হবে। জয়নাল হাফেজ একটু দ্রুত পা ফেলতে লাগলেন। মসজিদে যেতে মিনিট দশেক তো লাগবেই। ওয়াক্তের ব্যাপারটা মসজিদে গিয়ে কাঠি দিয়ে ছায়া মেপেই ঠিক করবেন।
জয়নাল হাফেজের পড়ালেখার শুরু এই মসজিদের মক্তবেই। পরে বাইরে কয়েক বছর পড়েছিলেন। কিন্তু বেশিদূর এগোনো হয়নি। লোকজন তাঁকে হাফেজ সা’ব বলে ডাকলেও তিনি আসলে পূর্ণ হাফেজ না। বিশ পারার হাফেজ। কিন্তু গ্রামের মানুষ এতেই সন্তুষ্ট। সবাই শ্রদ্ধা করে, মান্য করে, বিপদে-আপদে দোয়া নিতে আসে। তাঁর মরহুম আব্বাও এই মসজিদের খেদমত করে গেছেন আমৃত্যু। আব্বার ইন্তেকালের পর গ্রামবাসী মিলে তাঁর কাঁধেই আবার এই গুরুদায়িত্ব চাপিয়ে দিল। তিনিও অমত করেননি। এখন বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গেছে। বিশ বছর ধরে আছেন এই মসজিদে।
দরজার জিঞ্জির খুলে মসজিদে ঢুকলেন জয়নাল হাফেজ। জানালা দুটো খুলে দিয়ে বাইরে এসে একটা কাঠি খাড়া করে ছায়া মাপলেন। ছায়া কাঠির দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে।
আজান দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন তিনি।
– আজান চলছে। বামে ঘাড় ঘুরিয়ে যখন ‘হাইইয়ালাল ■ ফালাহ’ বলে টান দিচ্ছিলেন তখনই কানে লাগল – আওয়াজটা। দিঘির ওপার থেকে মাইকে কে যেন । ঘোষণা করছে কুখবর – কুখবর কুখবর! তিনি । দেখতেও পেলেন মাইক লাগানো একটা রিকশা ই দক্ষিণপাড়ের রাস্তা ধরে বাহারগঞ্জ হাটের দিকে যাচ্ছে।
জয়নাল হাফেজ প্রাণপণে মাইকের আওয়াজটা ঠেলে দিয়ে আজান শেষ করলেন। আজান শেষে ব্যাপারটা বোঝার জন্য তিনি দূরের রাস্তার দিকে তাকিয়ে কান পাতলেন। মাইক তখন অনেক দূর চলে গেছে। আওয়াজ ভেসে আসছে। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না কিছুই।
হাফেজ সাহেব মসজিদের সামনের সবুজ আঙ্গিনাতেই কিছুক্ষণ বসে রইলেন। বসে ভাবলেন- মাইকে কেনো বলল, কুখবর – কুখবর – কুখবর! এমন কী কুখবর যে -মাইক দিয়ে ঘোষণা করতে হচ্ছে। ভেবে কোনো কূলকিনারা পেলেন না তিনি। শেষে দিঘি থেকে অজু করে এসে আবার আগের জায়গাতেই বসলেন।
এখনো কেউ আসেনি। দু তিন জনের বেশি আসেও না। মাগরিব আর এশাতেই একটু বাড়ে। তাও ছয়-সাত জনের বেশি না। নিয়মতি মুসল্লি মাত্র দু জন। মুন্সিবাড়ির মোহর আলী আর এই দিঘিপাড়ার ওয়াজ মুন্সী। যুবক বয়সীরা তো আসেই না। বড়রাই আসে না। ওদের আর দোষে কী হবে। নিজের ছেলেটাকেও তো নামাজ ধরানো গেল না। ওয়াজ মুন্সী বলে, ধরব, ধরব। বয়স হইলেই ধরব। বয়স হওয়ার কি বাকি আছে? বিশ তো পার হয়ে গেছে। মোহর আলীকে দেখা যাচ্ছে। আসছে। আর অপেক্ষা করা যায় না। তাকে নিয়েই শুরু করতে হবে। মাঝে মাঝে এমন হয়। পিছনে একজন নিয়েই ইমামতি করতে হয়। নামাজ শেষে আর এক মুহূর্ত দেরি করলেন না জয়নাল হাফেজ। কেরোসিন তেলের বোতলের দড়িটা ধরে হাটের দিকে হাঁটা শুরু করলেন।
হাটে পৌঁছেও দেরি করলেন না। কখনো করেনও না। হাট-বাজার জায়গাটা ভালো না। নবীজি বলেছেন
পৃথিবীতে আল্লাহর সবচেয়ে পছন্দের স্থান মসজিদ, সবচেয়ে অপছন্দের স্থান বাজার। কথাটা তিনি মানার চেষ্টা করেন। তাই তেল কিনেই হাট থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। হঠাৎ চোখ আটকে গেল চায়ের দোকানে। দুলাল বসে আছে দোকানের এক কোণে। মনটা তাঁর খারাপ হয়ে গেল। ছেলে হাটেও আড্ডা দেওয়া শুরু করেছে। কানে যা আসছে তার সবই কি তা হলে সত্যি? খুবই খারাপ কথা। এই ছেলেকে তো বোধহয় আর ফেরানো যাবে না। না দেখার ভান করে তিনি হাট থেকে বেরিয়ে এলেন। রাস্তায় আসতেই সেই মাইকের আওয়াজটা আবার কানে এল ‘সুখবর সুখবর-সুখবর। হৈহৈ কা-, রৈরৈ ব্যাপার। আজ রাত সাতটায় বটতলার রঙ্গমঞ্চে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা বেদের মেয়ে। সঙ্গে থাকবে এক ঝাক ডানাকাটা পরীর…।
বাকিটুকু আর শোনার ইচ্ছে হল না জয়নাল হাফেজের। কিন্তু শোনা হয়ে গেল। নিজেকে কিছুটা বোকাও মনে হল তাঁর। এই সুখবর শব্দটাই তিনি শুনেছেন কুখবর। একবারও মনে হয়নি কুখবর কেন হবে? আর খবর কু হলে তো তা মাইকে প্রচার হওয়ার কথা না।
জয়নাল হাফেজ দ্রুত পা চালালেন। বেলা ডুবে যাচ্ছে। ওয়াজ মুন্সী নেই। মুক্তাগাছা গেছে। সে থাকলে চিন্তা ছিল না। মাগরিবটা সে পড়াতে পারত।
বাড়ি এসে দুলালের মার হাতে তেলের শিশিটা দিয়ে দ্রুত আবার মসজিদের দিকে পা বাড়ালেন। মসজিদে এসে দেখেন আজান হয়ে গেছে। মোহর আলী আজান দিয়েছে। তার অপেক্ষাতেই আছে সবাই। অজু করে দ্রুত মসজিদে ঢুকে গেলেন জয়নাল হাফেজ।
সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করে পিছনে তাকিয়ে দেখলেন মুসল্লী পাঁচ জন। মোহর আলীর সঙ্গে দিঘিপাড়ার তিন জন আর মুন্সিবাড়ির একজন। জয়নাল হাফেজ সুন্নত পড়লেন। দুই রাকাত নফলও পড়লেন। ছেলের চিন্তায় অস্থির হয়ে বিশেষভাবে দোয়া করলেন। অস্থির মনটা খানিকটা স্থির হল।
মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখেন ঘাসের উপর গামছা বিছিয়ে মোহর আলী বসে আছে। তাকে দেখেই মোহর আলী ডাকল, আহ হাফেজ ভাইয়া।
জয়নাল হাফেজ মোহর আলীর পাশে বসলেন। মোহর আলী বলল, ঘাস তো ভিজা, ভিজা, গামছার উপর বসো। এগিয়ে মোহর আলীর গা ঘেঁষে গামছার উপর বসলেন তিনি। মোহর আলী বলল, হাটে গেছিলা নাকি?
হ।
: কোনো খবর পাইলা?
: কী খবর?
: ডানাকাটা পরীরা নাকি আইছে?
জয়নাল হাফেজ মাথা নিচু করে বললেন, হুনলাম তো।
: আর কিছু হুনছ?
: কীয়ের কতা কও?
: তোমার ছেলের কতা কই। দুলালের কতা কিছু হুনছ?
: হুনি তো নানা কতাই। তুমি কী কইতে চাও।
যদিও আশেপাশে কেউ নেই তবু মোহর আলী গলা নামিয়ে বলল, হুন হাফেজ ভাইয়া, আমি মূর্খ মানুষ-আমার আছেই কী আর যাবেই কী? কিন্তু তুমি তো হাফেজ ইমাম আল্লাহর কালাম তোমার অন্তরে। তোমার তো একটুতেই অনেক ক্ষতি!
জয়নাল হাফেজ কঠিন গলায় জানতে চাইলেন, দুলাল কি ‘পরী’ দেখতে যায়?
: তুমি বুদ্ধিমান। ইশারাতেই বুইজ্জা ফালাইছ। আমার আকবর তো আগেই কতা হুনত না। বিয়া কইরা আলদা অইয়া গেছে অহন তো আরো হুনে না। এক কতা কইলে দশ কতা হুনাইয়া দেয়। তাই তোমারে কইতাছি। তোমার দুলাল আমার আকবরের সঙ্গী অইছে। কাইল রাইতে বটতলায় পরী দেখতে গেছিল।
: কানাঘুষা যা হুনতাছি সব তাইলে সত্যি?
: হ। আকবরের বউ আইজ সকালে আমারে কইল। সাবধান হও ভাই, সাবধান হও। তুমি এই গেরামের মাথা।
জয়নাল হাফেজের মুখে কোনো কথা এল না। উঠে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়লেন। তারপর বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলেন।
বাড়ি এসে দেখলেন রাতের রান্না শেষ। দুলালের মা তার অপেক্ষাতেই বসে আছে। তাঁকে দেখেই বলল, এত দেরি করলেন যে?
: মোহর আলীর সাথে কথা কইলাম।
: ভাত দিয়া দেই?
: দেও। জয়নাল হাফেজের এটাই নিয়ম। মাগরিবের পর রাতের খাবার খেতে দেরি করেন না। খেয়ে একটু জিরিয়ে মসজিদে চলে যান। এশা আদায় করে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। পাকঘরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে জানতে চাইলেন, দুলাল কই?
: ঘরেই তো।
: ডাক।
: ও পরে খাবে।
: পরে ক্যা?
: ও আপনের সাথে খাইতে শরম পায়।
: শরমের কী আছে? বাপ-বেটা একসাথে খামু।
দুলাল আড়ালে যত যাই করুক এখনো বাপের ডাক অগ্রাহ্য করার সাহস তার হয়নি। সে এলো সঙ্গে সঙ্গেই। পাকঘরের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে বলল, আব্বা, আমারে ডাকছেন?
: হ। ভাত খা।
: পরে খামু।
: না, অহনই খা।
দুলাল তবু দরজা ধরে দাঁড়িয়ে রইল। দেখে মা ডাকলেন, আয়।
আব্বার ডাকই, যথেষ্ট ছিল। মার ডাক যুক্ত হয়ে ডাকের শক্তি বেড়ে গেল। দুলাল ভিতরে ঢুকে খেতে বসে পড়ল। বুঝে গেল এটা শুধু খাওয়ার ডাক না সঙ্গে অন্য কিছু আছে। খেতে খেতে সে অপেক্ষাই করতে লাগল।
কিন্তু তেমন কিছুই ঘটল না।
জয়নাল হাফেজ প্রথমে ভেবেছিলেন, মাকে সামনে রেখে কড়া কয়েকটা কথা বলবেন ছেলেকে। কিন্তু দ্রুতই মত পাল্টালেন। খাওয়া শেষ হলে শুধু বললেন, মসজিদে চল।
দুলাল বলল, বাড়িত পড়মু নে।
: না না আমার সাথে মসজিদে চল। বাবার গলা খুবই কড়া।
মা-ও সুর মিলাল, ঠিকই তো, মসজিদ থাকতে বাড়িত পড়বি ক্যা?
দু জনের চাপে দুলাল আবারো বাধ্য ছেলের মতো বাবার সাথে মসজিদে রওনা হল। মসজিদের সামনে গিয়ে ছেলেকে বললেন, নামাজের পরে কোনোখানে যাবি না। আমার সাথে সোজা বাড়ি যাবি।
এশার দীর্ঘ নামাজ আরো খানিকটা দীর্ঘ করলেন জয়নাল হাফেজ। দুই রাকাত নফলও পড়লেন। নামাজ শেষ করে দেখেন মসজিদে কেউ নেই। জানালা, দরজা লাগিয়ে বাইরে এসে দেখেন দুলাল তাঁর কথা মেনে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেকে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলেন তিনি। কয়েক কদম এগিয়ে প্রশ্ন করলেন, ক তো দেহি দুলাল, আল্লাহ এই রাইত কিয়েরে বানাইছে?
দুলাল কোনো উত্তর দিল না। নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিলেন বাবা, আল্লাহ এই রাইত বানাইছে ঘুমানোর লেইগা। মানুষ যাতে আরামে ঘুমাবার পায় হের লেইগা। কিন্তু কিছু মানুষ আছে বেক্কল। এরা রাইতে না ঘুমাইয়া দিনে ঘুমায়। আমার ছেলে অইয়া তুই যে হেই বেক্কলদের দলে যোগ দিলি এইটাই আমার বড় কষ্ট।
দুলাল চমকে উঠল। আব্বা এত কিছু জানল কেমনে!
জয়নাল হাফেজ বললেন, তুই বড় অইছস, সবই বুঝস। তরে আর কিছু কইতে চাই না। বাড়িত গিয়া ঘরে ঢুইক্কা সোজা খিল লাগাবি। এই খিল যদি ফজরের আগে খুলস তাইলে তরে আর আমি কিছু কমু না। তর শাস্তির ভার আমি তার উপরেই ছাইড়া দিমু। যা করার তিনিই করবেন। বলে, উপরের দিকে তাকালেন তিনি। আকাশ ভরা তারা তখন মিটমিট করছে।
বাপ-ছেলের মাঝে আর কোনো কথা হল না। বাকি পথ তারা নীরবেই হাঁটলেন।
বাড়ি এসে বাবা তার ঘরে ঢুকে গেলেন। ছেলেও তার ঘরে ঢুকে খিল লাগিয়ে দিল। খিলটা বোধহয় একটু জোরেই লাগাল সে। কারণ খিল লাগানোর শব্দ বাবার কানেও পৌঁছল।
জয়নাল হাফেজের ঘুম যখন ভাঙল তখন অন্ধকার ফুরিয়ে দিনের আলো ফুটতে শুরু করেছে। একটু দেরিই হয়ে গেছে। স্ত্রীকে ডাক দিয়ে তুলে দ্রুত ঘর থেকে বের হলেন। বাথরুম সেরে, অজু করে দুলালের ঘরের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন। দু বার ডাকলেন দুলালকে। দুলাল কোনো সাড়া দিল না। তিনিও আর ডাকলেন না। বয়স্ক ছেলে। নামাজের জন্য গোসলের প্রয়োজনও হতে পারে তাই আর ডাকলেন না। দ্রুত মসজিদের দিকে হাঁটতে লাগলেন।
মসজিদে এসে দেখেন ওয়াজ মুন্সী আজান দিয়ে ফেলেছে। নামাজ শুরু করে দিলেন। নামাজ শেষে প্রাণভরে দোয়া করলেন সবার জন্য। বিশেষ করে দুলালের জন্য। একমাত্র সন্তান তার। সুমতি না হলে এই এক সন্তানই শত দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কথায় আছে:
বন্ধ্যার সন্তান নাই এক দুঃখ তার শত দুঃখে প্রাণ দগ্ধ কুপুত্রের মা’র।
মসজিদ থেকে বের হয়ে সবাই যার যার মতো চলে গেল। জয়নাল হাফেজ কি মনে করে যেন দিঘির ঘাটে গিয়ে বসলেন। মৃদু হাওয়া বইছে। শীত শীত লাগছে। গায়ে চাদরটা জড়ানো বলে আবার এক ধরনের আরামও লাগছে।
তখনো সূর্যের আলো রহমতপুরের ভূমি স্পর্শ করেনি। জয়নাল হাফেজ দিঘির পাড়ে বসেই ছিলেন। হঠাৎ দূর থেকে ওয়াজ মুন্সীর ডাক কানে এল- জয়নাল ভাইয়া, জয়নাল ভাইয়া। কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, তুমি এইখানে। তোমারে সবেই খুঁজতাছে। দুলালরে সাপে কাটছে। আন্ধারবন্দের জঙ্গলে বেহুঁশ অইয়া পইড়া রইছে।
জয়নাল হাফেজ ধড়মড় করে ওঠে দাঁড়িয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে লাগলেন আন্ধারবন্দের দিকে।
কিন্তু খিল খোলার চূড়ান্ত শাস্তি অনেক আগেই হয়ে গেছে।
- No chapters published yet.
